মিউজিয়ানার গানঘরের ‘কথার ডাক’ এ নির্বাচিত গানের কথারা এবার ‘সুরের ডাক’ নিয়ে …

0
1311
মিউজিয়ানার গানঘরের ‘কথার ডাক’ এ নির্বাচিত হয়েছে  ১১টি লেখা। এবারে দ্বিতীয় পর্যায়, ‘সুরের ডাক’। যারা সুর দিতে ইচ্ছুক তারা এই ১১ টি গানের মধ্যে এক বা একাধিক পছন্দমতো গান বেছে নিয়ে নিজেদের মত করে সুর দিতে পারেন। যে নিয়মগুলো আপনাদের মেনে চলতে হবে-
১. সুর হয়ে গেলে নিজে খালি গলায় গেয়ে অথবা Instrument এর সাহায্যে গেয়ে ফোনে রেকর্ড করবেন।
২. অডিও বা ভিডিও যেকোনো মাধ্যমে আপনি রেকর্ড করে পাঠাতে পারেন।রেকর্ডিং অবশ্যই স্পষ্ট হতে হবে।
৩. রেকর্ডিং Mail করুন এই ঠিকানায়- [email protected]
৪. সুর পাঠানোর শেষ তারিখ- ৩০ শে এপ্রিল,২০১৯।

শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
|| ভাল থাক, ভালবাসা ||
চেয়েছি আশিস, ভরা চাঁদ যেই আকাশে ছড়ালো আলো
প্রেম বেঁচে থাক চিরদিন, আর ভালবাসা থাক ভালো
মন সাড়া দেয়, যখন আর এক মনের আকুল ডাকে
প্রাণ বলে যায়, বেঁচে থাক প্রেম, ভালবাসা থাক ভালো ।
দেখেছি আমরা ফাগুনের রঙ আকাশের নীলিমায়
শুনেছি কেমন, মৌমাছিরাও প্রেমের আখর গায়
কুসুমে কুসুমে সেই সঙ্গীত উচ্ছল ঝলোমলো
প্রেম বেঁচে থাক চিরদিন, আর ভালবাসা থাক ভালো ।
যখন সঘনে চৈতালী সাঁঝে প্রেমের বাসর সাজে
হৃদয়ে হৃদয়ে স্বরলিপিরাও, সাত রঙ মেখে বাজে
চোখের তারায় সে সুরের ঢেউ নেচে যায় ছলো-ছলো

প্রেম বেঁচে থাক চিরদিন, আর ভালবাসা থাক ভালো ।

নির্মাল্য ভট্টাচার্য

স্থায়ী
সব পথ ঘুরে এসে নাহয় দাঁড়াও কিছু দূরে
যেখানে তোমার সব নীরবতা আভোগীর সুরে
আমায় ছুঁয়েছে ভোরে, প্রথম পাখীর গান যেন –
তুমি তো বাসোনা আর, আমি আজও ভালোবাসি কেন?।।

অন্তরা
আমি তো ভেবেছি কবে সব কথা বলা হয়ে গেছে
নীরব শরীর জুড়ে শুধু কিছু মুগ্ধতা বাঁচে
বুঝিনি চোখের ঘরে কিছু নদী রয়েছে এখনও..।।
তুমি তো বাসোনা আর…

সঞ্চারী
চোখের পাতায় যদি হাত রাখো একবার এসে,
চুপিসাড়ে গোধূলিতে পাখীর ডানার রোদ মেশে। / হয়তো হাসনুহানা ফুটবেই ঊষর বিদেশে। (যেকোনও একটি নিতে পারেন)

আভোগ
আমি তো জেনেছি রোজ এভাবেও ভালোবাসা যায়
নিজেকে অবুঝ রেখে ছুঁতে চাই আমার যা নয়
সূর্য অস্তগামী, তবু পথ চেনায় এখনও…

তুমি তো বাসোনা আর…

সোহম চক্রবর্তী

আমার এ বুক থেকে তুলে নাও অবিশ্বাসী মন
আমার দু’চোখ থেকে তুলে নাও মেঘলা ঈশান কোণ
আমার দু’কান পেতে শুনে নাও ছোট্ট মফস্বল
আমার দু’কূল ভেঙে যাক ভেসে যায় আলগোছে সম্বল

আমার ও মুখ থেকে নাও কেড়ে নাও না-লেখা সব গান
আমার দু’হাত খুলে যাও উড়ে যাও রাজকন্যের প্রাণ
আমার মুখোশ-ছেঁড়া মুখের কথা মুখেই পড়ে থাক
আমার এ ঘর ও ঘর পালিয়ে বাঁচুক ভীষণ পিছুডাক

আমার পাঁজর থেকে দাও মুছে দাও লুকোনো ডাকনাম
আমার পাতায় পাতায় রোদের মত নামুক বিশ্রাম
আমার শরীর বেয়ে হোক আঁকা হোক তোমার পোড়া দাগ
আমার দরজা থেকে যাক ফিরে যাক তোমার অনুরাগ।

নিবেদিতা মিত্র

আমার ইচ্ছে করে ওই আকাশে উধাও হয়ে যেতে।
আমার ইচ্ছে করে মেঘগুলোকে হাতের মুঠোয় পেতে।
আমার ইচ্ছে করে জলের ভিতর স্রোত হয়ে যাই ভেসে-
ইচ্ছে করে ভাবনারা যাক নিরুদ্দেশের দেশে।

ইচ্ছে করে তোদের মনের ইচ্ছে হয়েই থাকি,
বন্ধ মনের আগলগুলো সবই খোলা রাখি।
ইচ্ছেগুলো ইচ্ছে শুধু, কোথায় উড়ে গেল,

ইচ্ছেগুলো ভোকাট্টা , হারিয়ে কোথায় গেল।

ইচ্ছেগুলো পদ্মপাতায় ঝিকিমিকি এক আলো,
হঠাৎ কেমন হারিয়ে যে যায় মনের যত কালো।
ইচ্ছে করে দূর থেকে দূর আমার কাছে আসুক-
আমার ইচ্ছে আমার কথায় উঠুক আর বসুক।


অনুভব তো তখনই গভীরতা পায়।
যখন তোমার মন আমার মনের এই একলা আমিকে ছুঁতে চায়।
যত কিছু বঞ্চনা, মরে যাওয়া যে বাসনা,
সব তুমি তুলে নিলে কেন? বলো না।
জীবনের ফেলে আসা জীর্ণ পৃষ্ঠাগুলো
জীবনের মানে খুঁজে পায়।
কেন তুমি উদাসীন? সাগরের মত,
শুধু ঢেউ-ভাঙা খেলা খেলে সরে যাও,
তোমার মনের মাঝে লুকানো যে কত কথা ভাষা চায়।
যত গান গেয়েছিলে আজ ভুলে গেছি।
শুধু মনে পড়ে আমি তোমাকে পেয়েছি।
আজ আমার জীবনের সূর্য-ডোবার বেলা
রঙে রঙে কেন ভরে যায়।

অনুরাগ দত্ত

সেদিন ছিল ফাগুন মাখা রাত
ছিল তোমার দুকুল ভাঙ্গা হাসি
হয়নি ছোঁয়া তোমার দুটো হাত
হয়নি বলা,’তোমায় ভালোবাসি’।

আবার সেদিন বৃষ্টি এলো ঝেঁপে
একটা ছাতা, দুজনে পথচলা
লাজুক মন উঠলো কেঁপে কেঁপে
‘ভালোবাসি’,হয়নি তোমায় বলা।

মনের কথা রইলো আনকোরা
শ্রাবণ গিয়ে ফাগুন এলো ফিরে
খামের বুকে চিঠিরা মুখচোরা
মিলিয়ে গেলে তুমিও, ধীরে ধীরে।

আকাশ দত্ত

কী তবে তোর নাম হবে বল অন্ধকারের শেষে
সবুজ সিঁড়ি ক্লান্ত আলো বুকের কার্নিশে
মৃত আকাশ অন্ধ পাখি জাল কতদুর টানা
বলো পাঁজর নাকি ধূসর খাঁচা কে তবে পোষ মানা।।

কে কুড়লো মৃত্যু ধূলো চশমা ভাঙা কাচে
নিরর্থকের খড়কুটোরা পোড়ে মুঠোর আঁচে
বন্ধ আকাশ বধির পাখি জাল কতদূর টানা
বলো পাঁজর নাকি ধূসর খাঁচা কে তবে পোষ মানা।।

রক্ত ফোটা লুকাও তুমি টিপের ছদ্মবেশে
জীবন নাকি পিন বেঁধা পাপ প্রতিদিনের শেষে
ছিন্ন আকাশ মিথ্যে পাখি জাল কতদূর টানা
বলো পাঁজর নাকি ধূসর খাঁচা কে তবে পোষ মানা।।

পার্থসারথি ভৌমিক

আমি খেপবো বলে পাখনা খুলে
শুন্যে বানাই ঘর
মন ক্ষ্যাপা তুই বুঝে নে না
শুণ্যেরই খবর

নিজেরে তুই চিনবি যদি
বুঁদ হয়ে থাক নিরবধি
আকাশ মাটি অগ্নি জলে
তার খেলা নিরন্তর

মন ক্ষ্যাপা তুই বুঝে নে না
শুণ্যেরই খবর

যে খেলে এই জোয়ার ভাঁটায়
সেই তো চন্দ্র সুর্য ওঠায়
ক্ষ্যাপা ফেরে আশায় আশায়
বাছতে আপন পর

মন ক্ষ্যাপা তুই বুঝে নে না
শুণ্যেরই খবর

শুন্যে আমার কেউ নই আমি
ঘর কিছু নাই,নাই ঘরামি
জানেন শুধু অন্তর্যামী
সে যে শুন্যের কারিগর।

অনুরাধা কুন্ডা

ছুঁয়ে ফেলছি তোমার হাতের আঙ্গুল অস্পষ্ট ভোরে / উঠছে জেগে সকাল  কোনো অস্পষ্ট ভোরে
আমার শহর জাগছে দ্যাখো অন্ধকার এই ঘরে
আমি জানলা দিয়ে দেখছি কেবল রাস্তা চলে যায়
আর দুটো শালিখ একলা বসে হিম মাখছে গায়।

ভোরের সঙ্গে ফুটছে আলো, ফুটছে নতুন কুঁড়ি
আমি দেখছি বসে বটগাছটার পুরনো সেই ঝুরি
আর তিনটে শালিখ দোল খাচ্ছে বটের ডাল ধরে
আর পাতাগুলো বলছে কথা রূপকথার এই ভোরে।।

আমার রূপকথাটি বাঁচিয়ে রেখো, থাকুক বটের ছায়া
ঘরে বসেই দেখছি কেমন কোমল শ্যামল মায়া।।
কংক্রিটের এই দত্যিগুলোর মাঝে গাছের আলো

সত্যি বলছি অন্য কিছুই লাগছে না আর ভালো।
থাকুক গাছের ঝুরি আমার থাকুক পাখির ডাক
সবুজ চাইছি, সবুজ আমার হৃদয় জুড়ে থাক।।


ভিতরঘরে বৃষ্টি পড়ে
গাছপালারা ভিজছে খুব
আকাশজোড়া আমার চিঠি
তোমার জলে দিচ্ছে ডুব।

ডুবসাঁতারে ক্লান্ত ডানা
খুঁজছে আলো নিজের মনে
তুমি তখন একলা ঘরে
পুড়ছো অভিমানের জ্বরে।

জ্বরেরও নেই সাঁতার জানা
ভীষণ মন খারাপ তোর
আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি পড়ে
শ্যাওলামাখা নীলচে ভোর।


বৃষ্টি ছলোছলো/সন্ধ্যা ঝলোমলো/ একের পর এক ছবির ঢেউ
লেখার ঝলকেরা/নিভৃত অবসরে/ তোমাকে ছুঁতে আসে
অন্য কেউ…
বিপৎকালীন কোন অন্ধ পরিষেবা/তোমার পাশে থাকে অর্থহীন
এখনও জলকণা/ অবাধে ভেসে যায়/ এখন পরিমাপ
প্র মাদ হীন
তবুও চোখে থাকে/বিপুল দিক রেখা/বালিশে মুখ ঢাকা
চুলের রাশ।।
এখন বৃষ্টিরা/বালিতে মুখ গোঁজে/এখন শ্রাবণের
স র্ব না শ… ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here