Looking for my music in an age of confusion! Part 1 Pratyay Raha

0
319

প্রত্যয় রাহা

In a few days from now I and 7 more of my friends aged between 14 -20 will be performing contemporary Bengali music that does not sound like ‘band.’ Many of my friends who have never heard Bengali Music beyond ‘band’ will also be present. While practicing for this performance and inviting my friends – I thought of writing this piece of thought in two parts for musiana. Pratyay Raha, March 22, 2016

কেনই বা প্রয়োজন সঙ্গীতের?

কঙ্করডিয়া ইউনিভারসিটি-র তিনজন অধ্যাপক তাদের গবেষণার মধ্যে দিয়ে খুব প্রাসঙ্গিক এবং জরুরি একটা বিষয়ের দিকে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বিষয় টা হল এই যে খুব ছোট বয়স থেকে সঙ্গীত এর একটা পরিচয়(শোনা বা শেখা)হলে সেটা আমাদের মস্তিষ্কে এবং স্বাভাবিক ভাবেই স্নায়ুতন্ত্রে একটা গভীর প্রভাব ফেলে। ওনারা গবেষণার মধ্যে দিয়ে বুঝিয়েছেন যে আমাদের জীবনে সঙ্গীতের প্রভাব চরম রূপ পায়, এবং বিবিধ ও বিচিত্র ধারার সঙ্গীত আমাদের মন প্রান কে প্রসারিত ও উন্নত করে। ঠিক যেমন ভাষা শেখার ক্ষেত্রে একই ফর্মুলা প্রযোজ্য। তবে ২০১৬ সালে দাঁড়িয়ে আরো একটু গভীরে গিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। আমরা এমন একটা সময় এর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি যেখানে প্রতিকূল পরিস্থিতি না হলেও বেশ গম্বীর দুশ্চিন্তা আমাকে প্রতিনিয়ত নাড়া দিয়ে যায়।

বহুমানুষের এমন ধারণা যে আজকের দিনে কালজয়ী সঙ্গীত তৈরিহচ্ছেনা। আমি বিশ্বাস করিনা। মানুষের এমন ধারণা হওয়ার কারণ হল তারা শুনছে খুব কম।  দুশ্চিন্তার সূত্রপাত সেইখান থেকেই। সঙ্গীতের মান এর অবনতি না হলেও সঙ্গীত এর সত্যিকারের কদর কমছে। আজকের যুব সমাজ এক বিশেষ ধারার সঙ্গীতের মধ্যে বাঁধা পড়ে যাচ্ছে। অবশ্যই সেটারও নির্দিষ্ট কারণ আছে। এখন প্রশ্ন এটাই যে আমরা এই পরিস্থিতির শিকার হয়ে চুপচাপ বসে থাকবো, নাকি এমন কিছু ভাবার চেষ্টার করব যাতে সঙ্গীত কে আরও উন্নত করতে পারি, সেই দ্বীপের নিভন্ত জ্যোতি কে পুনরায় জ্বালাতে পারি।

কোন সঙ্গীতকে খুঁজবো আমরা?

সঙ্গীত কে পুনরুদ্ধার বা পুনরাবিস্কার করার কাজটা খুব সহজ ভাবেই করা যায়, যেই সঙ্গীত শোনার আগ্রহ বা উদ্যমটা আজ কমে এসছে, সেই আগ্রহকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা দিয়ে ভাবনা শুরু করা যায়। নিজের সংস্কৃতির ভাব ও উপাদান অনুধাবন করে একটা বিস্তৃত সাংস্কৃতিক জাগরণের জন্য মানসিক প্রসার প্রয়োজন। সামাজিক ও ভৌগলিক সীমানা অগ্রাহ্য করা মানসিক বিস্তার।

সাউথ ফ্লোরিডা ইউনিভারসিটির অধ্যাপক সি ভিক্টর ফাং সেই একই কথা বলেছেন। সাংগীতিক বৈচিত্রের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে লিখেছেন, সঙ্গীত কে ভৌগলিক গণ্ডির মধ্যে বাঁধা সম্ভব নয়, উপরন্তু বিশেষ ধারার মধ্যে বেঁধে ফেলা আরোই সম্ভব নয়, যদি কোন মানুষ সেটা করার চেষ্টা করে, তবে সে সাংস্কৃতিক মুক্তি এবং সাংগীতিক মুক্তি থেকে বঞ্চিত হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা “সঙ্গীতচিন্তা” গ্রন্থটি মনোনিবেশ করে পড়লে বোঝা যাবে যে তিনি প্রত্যেকটা কথায় এই মুক্তির কথা বলেছেন। “সঙ্গীতের মুক্তি”অধ্যায়ে উনি লিখেছেন, “শুধু মাত্র রস কে ভোগ করা নয় কিন্তু আপনাকে প্রকাশ করা যখন মানুষের অভিপ্রায় হয়, তখন সে এই বিশেষত্বের বৈচিত্র্য কে ব্যাক্ত করার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে। তখন সে নিজের আশা আকাঙ্ক্ষা হাসি কান্না সমস্ত কে বিচিত্র রূপ দিয়া আর্টের অমৃতলোক আপন হাতে সৃষ্টি করিতে থাকে। আত্মপ্রকাশের এই সৃষ্টিই স্বাধীনতা। ঈশ্বরের রচিত এই সংসার অসম্পূর্ণ বলিয়া একদল লোক নালিশ করে। কিন্তু যদি অসম্পূর্ণ না হইত তবে আমাদের অধীনতা চিরন্তন হত। তা হইলে যা কিছু আছে তাহাই আমাদের উপর প্রভুত্ব করিত, আমরা তার উপর একটুও হাত চালাইতে পারিতাম না। অস্তিত্বটা গলার শিকল পায়ের বেড়ি হইত।” তিনি আরো বলেছেন, “গানবাজনার সম্বন্ধে কালের যে বদল হইয়াছে তার প্রধান লক্ষণ এই যে, আগে যেখানে সঙ্গীত ছিল রাজা, এখন সেখানে গান হইয়াছে সর্দার। অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ গান শুনিবার জন্যই এখনকার লোকের আগ্রহ, রাগ রাগিণীর জন্য নয়। সেই সকল বিশেষ গানের জন্যই গ্রামাফোনের কাটতি। যুবক মহলে গায়কের আদর সে গান জানে বলিয়া, সে ওস্তাদ বলিয়া নয়।” তাঁর গানে আমরা পাই:

“গগন মগন হল গন্ধে, সমীরণ মুরছে আনন্দে,

গুন গুন গুঞ্জন ছন্দে, মধুকর ঘিরি বন্দে,

নিখিল ভুবন মন খুলিল, মন ভুলিল রে মন ভুলিলি রে”।

এই গানের কথায় বা সুরে কোথাও কোন সঙ্কীর্ণতা নেই, বিশ্বসঙ্গীত ও বিশ্বসুরের কথা বলেছেন কবিগুরু।

পরের লেখায় এই খোঁজেই বেরবো আমরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here