কৃষ্ণজিতের কড়চা- প্রথম পর্ব – আজব এক শারদ অর্ঘ‍্য- কৃষ্ণজিৎ সেনগুপ্ত

0
152

আবার একটা পুজো এল। পুজো মানেই হরেকরকম স্মৃতির বাদ‍্যি। বাঙালির শারদোৎসবের অন‍্যতম একটি দিকচিহ্ন হল বাটার জুতো। সেই কোন ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি ‘পুজোয় চাই নতুন জুতো’ শ্লোগান। এই শ্লোগান কি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’-এর চেয়েও পুরোনো? আমার বাবা ছোটবেলায় শুনেছেন, সম্ভবত দাদুও। তা হবে নাই বা কেন। বাটা কি আজকের কোম্পানি? সেই কোন ১৮৯৪ সালে টমাস বাটা এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাটার প্রধান দপ্তর সুইজারল্যান্ডে। সারা পৃথিবীর অন্তত পঞ্চাশটি দেশে এদের কাণ্ডকারখানা। আর এমনই সে কারখানার বাহার যে বেবাক বাঙালি প্রায় ভুলেই গেছে যে বাটা আদৌ এদেশের সংস্থাই নয়। তাই পুজো এলেই সেই অমোঘ বিজ্ঞাপনী বার্তা দেখে জেগে ওঠে বাঙালির আজব মন।

তা যে কথা বলতে এত ভণিতা সেটা এবার খোলসা করে বলেই ফেলি। ব‍্যাপারটা হল, আমার দেখা বাটার জুতোর প্রথম বাংলা বিজ্ঞাপন ১৯৩৮-এ প্রকাশিত একটি পোস্টারে। কিন্তু তাদের জুতোর যে বিজ্ঞাপনী গান হয়েছিল আর তার যে গ্রামোফোন রেকর্ডও হয়েছিল সেকথা এখন প্রায় কেউই জানে না। যদিও সেই রেকর্ডের গায়ে কোনো সালতারিখের বালাই নেই, তবুও আটাত্তর স্পিডের গালা দিয়ে তৈরি চেহারা দেখে মনে হয় তার প্রকাশকাল খুব সম্ভবত গত শতকের ষাটের দশকের প্রথমদিক। রেকর্ডটির দুইদিকে একই গান আর সেটি সমবেত কণ্ঠে গীত। শিল্পীদের পরিচয়ের কোনো বালাই নেই, তবে প্রধান পুরুষকণ্ঠটি যে খ‍্যাতনামা শিল্পী তরুণ বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের সে বিষয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। বেশ দ্রুতলয়ের উদ্দীপক সুরের গান, শুনলেই নাচতে ইচ্ছে করে। বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ‍্যও তো তাই, মানুষকে নাচিয়ে জিনিস বিক্রি করা। রেকর্ডের গায়ে লাগানো লেভেলের ডিজাইনটিও বেশ চিত্তাকর্ষক। সাদা জমিতে লাল, হলুদ, নস‍্যি রঙে ছাপা। সেখানে একটি টগবগে ঘোড়ার ছবি, দেখে মনে হয় পূর্ণেন্দু পত্রীর কাজ। কি জানি?

এই মোক্ষম রেকর্ডের সন্ধান আমি পাই পুরোনো রেকর্ড-বিক্রেতা মোর্তজা ভাইয়ের ইকবালপুর (কলকাতা)-এর বাড়ির গুদামে। তারপর সেটা বগলদাবা করে এনে যাঁকেই জিজ্ঞেস করি, তিনিই চমকে যান। বাটার জুতোর বিজ্ঞাপনের গানের গ্রামোফোন রেকর্ড!! বলো কী হে, এ তো বাপের জন্মে শুনিনি। অর্থাৎ এ হল বাস্তবিকই একটি আবিষ্কার। এবারের দুর্গোপুজোর আগে আমার পক্ষ থেকে জবর এক শারদ অর্ঘ‍্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here