আজকের চিত্রকথা।

0
88

কলকাতা তাই বাঙালির মনের মুকুর। বাঙালি চরিত্রের যত কিছু দোষত্রুটি, হীনতা, দুর্বলতা, কলকাতা তার একটি অবিনশ্বর স্মৃতিস্তম্ভ। কিংবা, এও বলা যায়, কলকাতা বাঙালি-দর্শনে সর্বোৎকৃষ্ট ম্যাগনিফায়িং গ্লাস।

আবার তেমনি হাল আমলের বাঙালি চরিত্রের যত কিছু মহত্ত্ব, যা কিছু গৌরব, কলকাতা তার জাদুখানা। এখানে এখনও পথে বের হলে আদি ব্রাহ্মসমাজের বাড়িটা দেখা যাবে, দেখা যাবে সুকিয়া স্ট্রিটের সেই বাড়িতে যেখানে প্রথম বিধবা বিবাহ হয়েছিল। তা ছাড়া কলকাতা ভারতবর্ষের কাছে দুনিয়ার জানলাও বটে। এখানে হিন্দু কলেজের ডিরোজিওর-শিষ্যরা একদিন নতুন যুগের বার্তা নিয়ে পথে বের হয়েছে, ব্রিটিশ ইন্ডিয়া
স্ট্রিটের একটা পুরানো বাড়িতে দ্বারকানাথেরা ভারতচিন্তায় বসেছিলেন, এবং ইত্যাদি। কলকাতা হিন্দু কলেজের শহর, ডিরোজিও শহর, কলকাতা দ্বারকানাথ, রামমোহন, সুরেন্দ্রনাথ,
সুভাষচন্দ্রের শহর।

আসল বিক্রিওয়ালা হলে তাঁদের খাতায় এরা এতদিনে তিলে তিলে যা যােগ করেছেন তা-ও যোগ হত। কারণ, ব্যবসায়ীরা একে বলেন—“গুডউইল’। আমরা যাকে সুনাম বলি- কলকাতার গুডউইল যে তার চেয়েও অনেক বেশি। হিন্দুস্থানিরা এখনও বলে—‘ব্যোম কালী কলকেত্তাওয়ালি, তেরা নাম না যায় খালি।’

শুধুমাত্র কলকাতার নাম নিলেও যে কিছু না কিছু এসে যায়। তা পকেটেই আসুক, আর মনেই আসুক। ইট, কাঠ, পাথরের কলকাতাকে হয়তো পকেটের কড়ির বলে কেনা যায়, কিন্তু মনে গর্ব জাগায় যে ‘গুডউইল’ তার দাম দেওয়ার লােক কোথায়?

শ্রীপান্থ 

রণবীর সাহা (সৌজন্য:মোজার্টো)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here