আজকের চিত্রকথা।

0
64

সন্তোষের মনে হল এখনাে একটা স্বপ্নের পালা চলছে তার। কিন্তু স্বপ্ন নয়। নির্জন পথের ওপর
ঝকমক করছে ধারালো আলাে। ট্রাম লাইনে ওয়েল্ডিং করছে কয়েকটা মানুষ—ফুলকি উড়িয়ে ছুটছে নীল আগুনের পিচকিরি। চেনা মােড়। ওই তাে নতুন সিগারেটের প্রকাণ্ড বাের্ড লাগানাে পানের চেনা
দোকানটা, অফিস যাওয়ার সময় যেখান থেকে রােজ সে পান কেনে।

ট‍্যাক্সিওয়ালা বললে, কোনদিকে স্যার? ঘুম কি এখনাে ভাঙেনি?
তাহলে স্বপ্ন দেখছিল ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে? তাই হবে। সন্তোষ লজ্জিত হল।
-একটু এগিয়ে ডান দিকে। হ্যা—ওই রাস্তা।
বাড়ির সামনে ট্যাক্সি এসে থামল। ব্যাগটা নিয়ে নেমে পড়ল সন্তোষ।
—কত দিতে হবে?
ট‍্যাক্সিওলা মিটার দেখিয়ে দিলে৷ ফ্ল‍্যাগটা দাড়িয়ে আছে। ঘর ফাঁকা।
-সে কি!
ত্রিশ বছরের নয়, চব্বিশ-পঁচিশ বছরের সুদর্শন ছেলেটি একটু হাসল।
–আপনাকে তাে ভাড়া নিইনি স্যার, চড়িয়েছি। কিছু দিতে হবে না।
মিনিটখানেক হাঁ করে রইল সন্তোষ। মনে হল, স্বপ্নের ঘােরটা এখনাে তার কাটেনি।
-কী বলছেন?
-স‍্যার, সারাদিন তাে পরের জন্যেই গাড়ি চালাই। এই রাতে নিজের জন্যে একটু চালিয়ে
নিলাম—বাঁচতে তাে হবে। আপনাকে বাড়ি পৌছে দিতে একটু দেরি হল, কিছু মনে করবেন না।
গর্জন উঠল ট্যাক্সির এঞ্জিনে। লাল ব্যাক লাইট দুটো একটু পরেই বাঁক নিয়ে অদৃশ্য হল।
আর দরজার গােড়ায়—সারি সারি ধারাল আলাের আশ্চর্য নির্জনতায় স্তব্ধ অভিভূত হয়ে দাঁড়িয়ে
রইল সন্তোষ। শুধু দূর থেকে আসতে লাগল ওয়েল্ডিংয়ের নীল আগুনের গর্জন, আর সন্তোষের মনে হতে লাগল, পরের জন্যে পরিবেশনের ফাঁকে যদি একটা নিজের জন্য অবকাশ তারও থাকত, তা
হলে—
তা হলে আজ এমন করে কেতকী হারিয়ে যেত না।

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় 

অনির্বাণ দত্ত (সৌজন‍্য: মোজার্টো)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here