বেদনার জল: আধ্যাত্মিক বিষণ্ণতা ও রবীন্দ্রনাথ

0
931

মানবমনের সব অনুভূতিতেই অনায়াসে মিশে থাকেন রবীন্দ্রনাথ।বিষাদ সেই অগণিত অনুভূতির মধ্যে অন্যতম। রবীন্দ্রনাথের কোন কোন বর্ষার গান বা কবিতায় দেখা দেয় এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক বিষণ্নতা। প্রকৃতিস্তবের সাথে সেই বিষণ্ণতাও কিভাবে যেন আমাদের হৃদয়কে ছুঁয়ে ফেলে । এই প্রবল আধ্যাত্মিক বিষণ্ণতাকেই ছুঁয়ে ফেলার চেষ্টা মিশে তৈরি আকাশ, শ্রবণা ও সুস্মিতার নতুন কাজ ‘বেদনার জল’। নামটি আকাশের দেওয়া। তার ‘অলৌকিক অসুখ’ নামক কবিতার বইতে বেদনার জল নামের কবিতায় আকাশ লিখছেন, ‘এসো শ্রাবণের গায়ে ঢেলে দিই বেদনার জল,বেদনার জল।’ তাই বর্ষণমুখর গান ও কবিতায় যখন রবীন্দ্রনাথ বুনে দেন তার নিজস্ব নির্জনতা তখন ‘বেদনার জল’ নামটিও একই সঙ্গে হয়ে ওঠে প্রাসঙ্গিক। রবীন্দ্রনাথের প্রচলিত গান বা কবিতাকে বেছে না নিয়ে তাই বেছে নেওয়া হয়েছে ‘সানাই’ কাব্যগ্রন্থের ‘অসম্ভব’ এবং ‘কল্পনা’ কাব্যগ্রন্থের ‘ঝড়ের দিনে’ কবিতাদুটি ,যার আবৃত্তিতে ছিলেন আকাশ ও শ্রবণা। গান হিসেবে ব্যবহৃত ‘আজি তোমায় আবার চাই শুনাবারে’। সুস্মিতা গেয়েছেন সে গান।রবীন্দ্রনাথকে প্রচলিত ধারার থেকে বেরিয়ে দেখার চেষ্টার জন্যই এই সুচিন্তিত নির্বাচন আকাশের।দুটি পর্বে রবীন্দ্রনাথের এই আধ্যাত্মিক বিষণ্ণতাকে ধরতে চান তিনি। প্রথম পর্বে বর্ষা মিশে গেছে সেই বিষন্নতার সাথে

‘দূরে চলে যাই নিবিড় রাতের অন্ধকারে, আকাশের সুর বাজিছে শিরায় বৃষ্টিধারে।’

অসম্ভব কবিতার এই শব্দে অথবা গানের

‘আমার পরাণে আজি যে গান উঠিছে বাজি

অবিরাম বর্ষণধারে।’

উচ্চারণে সেই বর্ষা মিশে থাকা বিষন্নতারই পরিচয়।দ্বিতীয় পর্বে হয়তো এই অপেক্ষামুখর বিষণ্নতা পৌঁছবে তার পরিণতিতে। মিউজিয়ানার সাথে এটা আকাশ এবং সুস্মিতার প্রথম কাজ। শ্রবণা এর আগেও যুক্ত ছিলেন মিউজিয়ানার সাথে। আকাশের ভাষায় একটি ভালো কাজ করার আবেগ এবং সেই কাজকে লোকেদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে আন্তরিক তাগিদ, তা মিউজিয়ানাকে স্বতন্ত্র করে তুলেছে। পরবর্তী সময়েও তারা মিউজিয়ানার সাথে কাজ করতে আগ্রহী তাই ভীষণভাবেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here