ইঁট-পাথরের শহরে বিকল্প বাউল ফকির উৎসব।

0
457

“ কি বিচিত্র এই দেশ “। শোনা যায় আলেকজাণ্ডার এই উক্তি করেছিলেন। তা সত্যিই । ভূগোল, ইতিহাস বা সংস্কৃতি…যেদিকেই তাকাই না কেন…বৈচিত্র্য অগাধ। যদি সঙ্গীতের ক্ষেত্র ধরি। প্রাচীনকাল থেকেই মাটির যে সুর আমাদের দেশকে ভরিয়ে রেখেছে, তার কোনওই তুলনা হয়না। সারা পৃথিবীর সুরের খোঁজ সেখানে পাওয়া যায়। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন গানের ধারা চলে আসছে প্রাক আর্য কাল থেকে।

এই আদিম অথচ আধুনিক সঙ্গীতের এক একটি ধারা বাউল ফকির বা সুফি । যেসব গানের বাণী অনেক সময়ই রূপকাঙ্গিক। বৃহত্তর অর্থে বলা উচিত যে এ শুধুই কোনো গানের ধারা নয় । এ হল এক যাপনের ধারা, বিশ্বাসের ধারা , জাতি ধর্ম নির্বিশেষে ভালবাসার ধারা। একটা দর্শনের ধারা। এই ভালোবাসা প্রতিটি প্রাণের প্রতি ভালোবাসা। নিখিল বিশ্বের প্রতি ভালোবাসা । যে ভালোবাসার কথা বলে গেছেন বুদ্ধ , মহাবীর , শ্রী চৈতন্য , কবীর , নানক, লালন, ভবাপাগলা এবং আরো অনেকে।

কিন্তু বর্তমান বাজার রাজনীতির যুগে সেই ধারা কোণঠাসা প্রায়।  এই বিশ্বাসীদের বাঁচতে হবে এই পরিস্থিতিতে। তাই তাঁদেরকেও কখনো বাজারকে আঁকড়ে ধরতে হয় পেটের দায়ে।সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী নতুন গানও তৈরী হয় কিন্তু ব্রাত্যজনের কথা আধুনিক পৃথিবীতে অধিকাংশ সময়ে ব্রাত্যই থাকে। সেইমতো তাঁদের মূল্য নির্ধারণ হয়। নানা সময়ে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বব ডিলান, এ আর রহমানের এই ভাবসংগীতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। নানা সংগঠন তাঁদের সঙ্গীত আর দর্শনকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছেন। হারিয়ে যাওয়া গানের পুনরুদ্ধার করছেন।
আমরাও সেইরকমই ক্ষুদ্র কিছু মানুষ যারা চেষ্টা চালাচ্ছি সেই ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে। সেটা শুধুই গান নয়, গানের সঙ্গে দর্শনকে মেলানোর চেষ্টাই আমাদের পথ চলার প্রধান উদ্দেশ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here