আজকের চিত্রকথা

0
88

আমাদের শৈশবে সেই সময় একবার সপরিবারে বোলপুর যাওয়া হয়। সেকালের শান্তিনিকেতন সত্যই শান্তিনিকেতন ছিল, ছেলেবুড়ো সকলেরই মনোমোহন। কর্মকোলাহল ও জনকোলাহলশূন্য, শুধু শান্ত মৌন প্রকৃতির অবাধ রাজত্বের বিস্তার।

শান্তিনিকেতন বাড়িটির গাড়িবারান্দার কার্নিসের ওপর অনেকগুলো সমুদ্র শামুক সাজানো ছিল। এমন শামুক এর আগে আমরা কখনো দেখিনি, কি রহস্যময় মনে হত। তার ছিদ্রের ভেতর কান একটা শব্দ পাওয়া যেত যেন সমুদ্র-কল্লোল। সমুদ্র নিজের তরঙ্গঘন চিত্ত যেন চিরদিনের মত তার ভিতর রূদ্ধ করে রেখেছে। ‘সমুদ্র’ নামটাই তখন আমাদের কাছে রহস্যময় ছিল। কর্তাদাদামশায়ের চীন ভ্রমণে যাত্রার বার্তার সঙ্গেই সে নামটি আমাদের পরিচিত হয়েছিল। হয়ত সেই সময়ই তাঁর সংগৃহীত এই শামুকগুলি। আর রহস্যময় ছিল বোলপুরের খোয়াই পাহাড় ও তাদের মধ্যে দিয়ে বালির ভিতর থেকে ঝির ঝির করে বেরন জলের ছোট ছোট ধারাগুলি। ভূতত্ব-বিজ্ঞানের প্রথম পাঠ আরম্ভ হল আমাদের এখানকার প্রকৃতির ক্রোড়ে।

সরলাদেবী চৌধুরাণী 

সুমিত মেহনদিরাত্তা (সৌজন্য: মোজার্টো)

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here