শচীনকত্তার নটবেহাগ (কৃষ্ণজিতের শিল্পযাপন) কৃষ্ণজিত

0
1160
Sachin Dev Burman
সুরের আনন্দ 
Ustad Faiyaz Khan
নটবেহাগ রাগটা আমি প্রথম শুনি শচীন দেববর্মণের গলায়। গানটি ছিল ‘ঝন ঝন ঝন বাজে মঞ্জীর’। অজয় ভট্টাচার্যের লেখা কথায় সুর দিয়ে শচীন দেববর্মণ ১৯৩৭-এ এই গানের রেকর্ড বের করেন। আমি যখন এ গান শুনি তখন অবশ্যই জানতাম না যে এটি নটবেহাগ রাগে সৃষ্ট। কিন্তু তাতে করে গানের রসগ্রহণে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। কী সুন্দর ছন্দময় একটি আনন্দের গান। যত শুনি মন ততই মেতে ওঠে।
তারপর ক্রমে একদিন জানলাম শচীন দেববর্মণ এই গানের সুরের প্রেরণা পেয়েছিলেন কিংবদন্তি শিল্পী উস্তাদ ফৈয়াজ খানের বিখ্যাত নটবেহাগ ‘ঝন ঝন ঝন পায়েল বাজে’ শুনে। শচীনকর্তা স্বয়ং একথা লিখেও গেছেন তাঁর আত্মজীবনী ‘সরগমের নিখাদ’-এ। কিন্তু আমি তো তখন সে-সব বৃত্তান্ত পড়িনি।হঠাৎ একদিন উস্তাদ ফৈয়াজ খানের গাওয়া নটবেহাগ শুনে মিলটা চকিতে বুঝে ফেললাম। তারপর সে কী আনন্দ! যারা গান বিন্দুমাত্র না শিখে, শুধুমাত্র শুনে শুনে রাগরাগিনী চেনার চেষ্টা করে, তাদের কাছে একটি নির্দিষ্ট রাগকে চিনতে শেখা যে কী আনন্দের​ তা কাউকে কখনো বোঝানো যাবে না।
Sachin Dev Burman

তা সে যাইহোক, আমি তো নটবেহাগে মথিত হয়ে মহানন্দে দিন কাটাচ্ছি…এমন সময় একদিন রেডিওয় শুনলাম হিন্দি ছবি ‘বুজদিল'(১৯৫১)-এ লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া ‘ঝন ঝন ঝন পায়েল’। সেই সুর! অর্থাৎ কিনা নটবেহাগ। কিন্তু তার সঙ্গে বাংলা কীর্তনের একটা চমৎকার মিশ্রণ। তাতে গানটির রূপ যেন আরো খুলে গেছে। খুঁজে বেড়াই এ গানের সুরকার কে? শিয়ালদার এক ক‍্যাসেটের দোকানে গিয়ে শেষপর্যন্ত সন্ধান পাওয়া গেল। হ‍্যাঁ, যা ভেবেছি ঠিক তাই। সেই শচীন দেববর্মণ।

 এইভাবে গান শোনা, সুর চেনার আনন্দ আমাকে বারেবারে স্বর্গসুখের ঠিকানায় পৌঁছে দেয়। আমি সংগীতের মধ্যে নিজেকে হারাই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here